মানুষ না চাইলেও দৈনন্দিন জীবন থেকে অনেক কিছু শেখে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, ধর্ম, ইতিহাস, সমসাময়িক ঘটনা বা বিষয় থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষনের ফলে অর্জিত জ্ঞান মানবজীবনকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে, কখনো ভালো বা কখনো খারাপের দিকে! নিয়মতান্ত্রিক, প্রয়োজনীয়, ও ভাল শিক্ষাগুলো অর্জনের লক্ষে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে গড়ে উঠেছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা। তাই আমরা দল বেঁধে খুশিতে স্কুলে যাই, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। আর এভাবেই দীর্ঘ ২০ বছর বা তারও অধিক সময় ধরে আমরা শিক্ষা লাভ করি। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় পর পাঠ্যপুস্তকের অনেকটাই ভুলে যাই, আংশিক কিছু বিষয় ভাসা ভাসা মনে করতে পারি, মাঝে মাঝে এমনও হয়- পঠিত সব পাঠ্য বইয়ের নামও আমরা মনে করতে পারি না। প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক ভাবে অর্জিত শিক্ষার খুব অল্প একটা অংশই আমরা স্মৃতিতে ধরে রাখতে সমর্থ হয়। ভুলে যাওয়া মানুষের সহজাত প্রবণতা, কিন্তু মানুষ কেন ভুলে যায়, বা মস্তিষ্কের কার্য প্রক্রিয়াই বা কেমন? তা চিকিৎসা বিজ্ঞান বা মনোবিজ্ঞানের আলোচনা। আমার আলোচনা / চিন্তার বিষয়- “ভুলে যাওয়া বিদ্যা চিন্তায় রূপান্তর করে ব্যক্তিদর্শণ উন্নয়ন ও জ্ঞান অর্জন।”

আমরা যা এখনো দেখিনি বা অজানা, সেই বিষয়ে শিক্ষা অর্জনের পূর্বে কেবল কল্পনা, অনুমান, বা ধারণা করতে পারি। কল্পনা, অনুমান, বা ধারণা করার যেই শক্তি বা ধরণ তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়, চিন্তার ভিন্নতার কারণেই জনে জনে এই বৈচিত্র! মূলত কল্পনা, অনুমান বা ধারণা করার এই জগৎটাই জ্ঞানের জগৎ! প্রত্যেক ব্যক্তির একটা নিজস্য ভাবনা/মানুষিক-বৈশিষ্ট/চিন্তা/দর্শণ/মত  থাকে যা একান্তই বেক্তিগত (হয়তো জন্ম সূত্রে অর্জিত)। ব্যাক্তির এই দর্শণ বা “ব্যক্তিদর্শণ” যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে যা মানুষ নিজের অজান্তেই মেনে নেয়। অর্জিত বিদ্যা, চিন্তায় রূপান্তর করার ফলে উন্নত হয় “ব্যক্তিদর্শণ”, আর যার এই দর্শন যত উন্নত তার জ্ঞানের জগৎও ততো সমৃদ্ধ।

অর্জিত শিক্ষা ও ব্যক্তিদর্শণ দুইটা আলাদা সত্তা, শিক্ষায় মানুষ শিক্ষিত হয় আর ব্যক্তিদর্শণের উন্নয়নের ফলে মানুষ জ্ঞানী হয়। “শিক্ষা ও ব্যক্তিদর্শণ” এই দুইয়ের মাঝে সংযোগ সৃষ্টি করে চিন্তা। ভাবুক মন শিক্ষাকে চিন্তার উপাদান হিসেবে নেয়। আগেই বলেছি জ্ঞানের জগৎই হলো ব্যক্তিদর্শণ আর এই জগতের জ্ঞান গুলো কখনো বিস্মৃত হয় না এবং প্রতিটি জ্ঞান একে অপরের সাথে গভীর ভাবে সম্পর্কযুক্ত ও সাংঘর্ষিক নয়। অর্জিত শিক্ষাকে যখন কেউ ব্যক্তিদর্শণ এর সাথে সমন্বয় করে (শিক্ষাকে জ্ঞানে রূপান্তর করে), তখন শুধু একটা শিক্ষাই জ্ঞান হিসেবে সংযুক্ত হয়না বরং অন্যান্য জ্ঞান গুলোকেও পরিমার্জন ও পরিবর্ধণ করে।

তাই আমি মনে করি শিক্ষাকে জ্ঞানে রূপান্তর করার বাহন হল- চিন্তা। আর এই চিন্তা হবে বেক্তিস্বার্থের উর্দ্ধে ও নিরপেক্ষ, তাই শিক্ষা কে জ্ঞানে রূপান্তর করার যেই চিন্তা তা শুধু সৎ মানুষের পক্ষেই সম্ভব!। সম্মানিত পাঠক উপরের আলোচনা নিছক আমার কল্পনা প্রসূত চিন্তা, যা সত্য নাও হতে পারে। আপনার চিন্তাগুলো হয়তো আরো সাবলীল ও যুক্তি সঙ্গত তাই ধারাবাহিক ও যৌথ ভাবে আমাদের চিন্তা গুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার মূল্যবান মতামত এই লেখাকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

MehSan will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.