জ্ঞানীরা সৎ, নাকি সৎ মানুষরা পর্যায়ক্রমে জ্ঞানী হয়ে উঠে? এই প্রশ্নের উত্তর ভাবার আগে আর একবার জ্ঞানী বা সততার ব্যাখ্যা নিয়ে ভাবুন। শিক্ষিত ও জ্ঞানী কোনো সমর্থক শব্দ নয়, যদিও আমাদের চিন্তায় তাদের সহাবস্থান! একইভাবে শুধু “সত্য কথা বলা” মানেই সততা নয়।

জ্ঞান শুধু মানুষ বা মানবতার কল্যানেই ব্যবহৃত হতে পারে, কখনো অমঙ্গলের কারণ হয় না। কিন্তু শিক্ষার ভাল খারাপ দুটো দিকই থাকতে পারে। বিদ্বান কখনো কখনো দুর্জন হয়, কিন্তু জ্ঞানী কখনো দুর্জন হতে পারে না, জ্ঞানের সাথে সততার একটা গভীর সম্পর্ক! কিন্তু প্রশ্ন হলো- জ্ঞানী মানুষ সৎ, নাকি সৎ মানুষরা জ্ঞানী?

কি ভাবছেন? জ্ঞানী মানুষরা কখনো অসৎ হতে পারে না, তাই তারা সৎ? নাকি, সৎ মানুষের পক্ষেই শুধু জ্ঞানী হওয়া সম্ভব? এইটা একটা অমূলক ভাবনা মনে হতে পারে কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর বের করাটা অত্যন্ত জরুরি এই কারণে যে, ধরুন- “জ্ঞানী মানুষরা কখনো অসৎ হতে পারে না, তাই তারা সৎ” যদি এইটা সত্য হয় তাহলে আমরা চাইলেও অনেকেই কখনো জ্ঞানী হতে পারবোনা। পক্ষান্তরে যদি এইটা সত্য হয়- “সৎ মানুষের পক্ষেই শুধু জ্ঞানী হওয়া সম্ভব” তাহলে আমরা সবাই চাইলে একসময় জ্ঞানী হয়ে যেতে পারি নিজেকে সৎ মানুষ বানানোর মধ্যে দিয়ে!

অর্জিত শিক্ষা, জ্ঞান বহিঃপ্রকাশের সহায়ক মাধ্যম মাত্র। পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয়, বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জিত হয় জানার মধ্যদিয়ে আর জ্ঞান অর্জিত হয় সততার মধ্যদিয়ে। কেউ যদি একই সাথে শিক্ষিত ও সৎ হয় তাহলে আমরা প্রাথমিক ভাবে ধরে নিতে পারি সে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি। আবার কেউ যদি একই সাথে শিক্ষিত ও দুর্নীতিপরায়ণ হয় তাহলে তাকে কোনো ভাবেই আমরা জ্ঞানী বলতে পারি না।  

শিক্ষিত হয়ে সময়ের অনুকূলে জীবনকে পরিচালনা ও অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছে মনোবাসনা পূর্ণ করাই সফলতা (?), তাহলে জ্ঞানী হওয়া কি খুব জরুরী? নাকি যেকোনো উপায়ে সফল হওয়া জরুরী? আসল বিষয় হল চুড়ান্ত ভাবে শুধু জ্ঞানীরাই সফল হয়!

সততার মধ্যদিয়ে জ্ঞান অর্জিত হওয়ার প্রক্রিয়া খুব সুক্ষ ও সুদূরপ্রসারী, কিভাবে? সঠিক সময়ে সত্য কথা না বলে  চুপ থাকাও এক ধরণের মিথ্যাচারিতা। আবার, আপনার সত্য কথা বা সত্য আচরণ যদি বিনা কারণে অন্য কারো মনখারাপের কারণ হয় তাহলে সেটাও একটা অপরাধ। এমন সূক্ষ ও গৌণ অপরাধ বা মিথ্যাচারিতা পরিহার করে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ-উদ্দেশ্য, কথা-বার্তা, চলা-ফেরা, আচার-ব্যবহার সবকিছুতেই যখন আপনি সৎ হয়ে উঠার চেষ্টা করবেন, ঠিক সেসময় লক্ষ করবেন আপনার চারপাশের পরিবেশ ক্রমান্বয়ে জটিলতায় ঘনীভূত হয়ে উঠছে। উদীয়মান এই নতুন সংকট মোকাবেলা করতে প্রতিনিয়ত আপনাকে কিছু বাড়তি মানুষিক কৌশল অবলম্বন করতে হবে এবং সেই সাথে বিভিন্ন ধরণের ঘটনাবলীর মধ্যে একের পর এক সমন্বয় করে এগুতে হবে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে সহনশীলতা, ধৈর্য, উপলব্ধি, সংযম, বিচ্ছিন্ন ঘটনাবলীর মধ্যে সামঞ্জস্য ও অসামঞ্জস্য বুঝতে পারা, এরকম নানাবিধ গুন আপনার মধ্যে বাসা বাঁধতে শুরু করবে। সততার এই চলমান অধ্যাবসায় একটা সময় পর ফল দিতে শুরু করবে আর আপনি হয়ে উঠবেন আগের থেকে অনেক বেশি আত্মবিস্বাসী এবং আত্মবিশ্লেষক। এই পর্যায়ে আপনি মানুষিকভাবে অনেকটা সবল এবং চিন্তার ব্যাপ্তি প্রসারিত হতে থাকবে, নতুন নতুন চিন্তা আপনাকে উদ্বেলিত করবে, নতুন নতুন ভাবনায় মুখরিত হয়ে উঠবে আপনার একাকী সময়গুলো। এভাবেই একসময়  কেটে যাবে আপনার চিন্তার জগতের সব অন্ধকারগুলো, আর সবকিছু যেন আপনি দেখতে বা অনুধাবন করতে পাবেন খুব স্বচ্ছতার সাথে।

তাই আমি মনে করি “শিক্ষা বা অন্য কিছু নয় বরং সততাই মানুষকে জ্ঞানী করে তোলে”। সম্মানিত পাঠক উপরের আলোচনা নিছক আমার কল্পনা প্রসূত চিন্তা, যা সত্য নাও হতে পারে। আপনার চিন্তাগুলো হয়তো আরো সাবলীল ও যুক্তি সঙ্গত তাই ধারাবাহিক ও যৌথ ভাবে আমাদের চিন্তা গুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার মূল্যবান মতামত এই লেখাকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

MehSan will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.