“কৃতজ্ঞতা” জ্ঞানীদের অলংকার, আদর্শ হিসেবে শুধু জ্ঞানীরাই তা ধারণ ও লালন করে। “মানুষ মাত্রই অকৃতজ্ঞ, কিন্তু জ্ঞানীরা কৃতজ্ঞ থাকার গুন্ অর্জন করে”। একজন জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্রই একজন সৎ মানুষ – অকৃতজ্ঞতার মত ঘৃণিত মিথ্যাচারিতা জ্ঞানীদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ। জ্ঞানীরা আলোচনার উর্দ্ধে, কিন্তু আমার চিন্তার বিষয়- (সাধারণত) মানুষ কেন অকৃতজ্ঞ হয়?

কৃতজ্ঞতা একধরণের দায়বদ্ধতা ও স্বীকৃতি। যেকোনো দায়বদ্ধতা মানুষিক স্বাধীনতার ব্যাঘাত ঘটায়, কারণ মানুষ জন্মগত ভাবে স্বাধীনচেতা। অন্যদিকে উদার মানুষিকতা না থাকায় ও বিনা প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ভালো কাজের স্বীকৃতি না দিতে পারা আদর্শগত দৈন্যতা। এই উভয়সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার একটাই সহজ পথ তা হলো- ভুলে যাওয়া বা অকৃতজ্ঞ হওয়া।

দায়বদ্ধতার সাথে স্বার্থ জড়িত আর স্বীকৃতির সাথে অহংকারবোধ জড়িত। মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করলে অকৃতজ্ঞ হওয়ার পেছনে যথেষ্ঠ কারণ বের করা সম্ভব কিন্তু কৃতজ্ঞ থাকার জন্য দরকার স্বার্থবিমুখ ও অহংকারহীন মানুষিকতা, আদর্শ, বা বেক্তিদর্শন। এ জন্যই “কৃতজ্ঞতা” জ্ঞানীদের অলংকার, আর অন্যদের বেলায় তা বোঝা স্বরূপ।

ব্যক্তিস্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সৎ বা কৃতজ্ঞপরায়ণ হওয়ার মাঝে সার্থকতা কতটুকু? সততার একটা সুন্দর্য আছে তা হলো – সর্বদা সৎ থাকা। সততার ধারাবাহিক অধ্যাবসায়ের মধ্য দিয়ে একজন বেক্তি নিজেকে জ্ঞানী হিসেবে রূপান্তর করে। অকৃতজ্ঞতা বাহ্যিক দৃষ্টিতে কখনো কখনো সাময়িকের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে বা ক্ষনিকের জন্য মিথ্যা গৌরব সৃষ্টি করে। কিন্তু চুরান্তভাবে তা বিনাশ বা লজ্জা ছাড়া অন্যকিছু  বহন করে না। নিবিড় উপলব্ধি মিথ্যাচারিতার কুফল উন্মোচণ করে তাই জ্ঞানী ব্যক্তি নিজের চুড়ান্ত স্বার্থ রক্ষার জন্যই অকৃতজ্ঞ বা অসৎ হয় না।

সম্মানিত পাঠক উপরের আলোচনা নিছক আমার কল্পনা প্রসূত চিন্তা, যা সত্য নাও হতে পারে। আপনার চিন্তাগুলো হয়তো আরো সাবলীল ও যুক্তি সঙ্গত তাই ধারাবাহিক ও যৌথ ভাবে আমাদের চিন্তা গুলোকে এগিয়ে নিতে আপনার মূল্যবান মতামত এই লেখাকে আরো সমৃদ্ধ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

You have successfully subscribed to the newsletter

There was an error while trying to send your request. Please try again.

MehSan will use the information you provide on this form to be in touch with you and to provide updates and marketing.